জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬। শুক্রবার (৩১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ‘২৪-এর জুলাই বিজয় জনগণের, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়।’

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি. নং বি-২২২৩)-এর উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদ, সঞ্চালনায় ছিলেন এসএম আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকসু পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী ও মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিম, পরিবহন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি লোকমান আহমদ এবং ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ডা. সারোয়ার ছিদ্দিকী। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং সংগঠনের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের ৩১ জুলাইকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে বলেন, সেদিন সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা পরদিন ১ আগস্ট কার্যকর হয়। তিনি বলেন, সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জনগণের প্রতি আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং মাত্র তিন দিনের মধ্যে তৎকালীন সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১,৪০০ শহীদের মধ্যে সর্বাধিক ছিলেন শ্রমিক শ্রেণির, এরপর ছাত্র ও সাধারণ মানুষ। শ্রমিকরা কোটার জন্য নয়, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি এক মন্ত্রী ও এক হুইপের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অভিযোগ করেন, ‘সমঝোতার মধ্যে নিলে চাঁদা বলা যাবে না’-জাতীয় বক্তব্য প্রকারান্তরে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার শামিল। তিনি বলেন, দেড় কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিভিত্তিক অবৈধ উপার্জনই যেন কর্মসংস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, যা জনগণ ঘৃণা করে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের এক নেতা নিজেই স্বীকার করেছেন গত পাঁচ মাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি, বরং দুর্নীতি বেড়েছে। পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত ছিল, অথচ তা আদায়ে আন্দোলন করতে হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিকদের মারধর, হামলা ও যানবাহন ভাঙচুরের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি এবং এসবের বিরুদ্ধে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের দাবিদার কোনো দল নয়, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে যারা নিজেদের গণতান্ত্রিক দাবি করে, তাদের অবশ্যই সেই রায় মেনে নিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২৪-এর বিপ্লবের পরও শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হয়নি, বরং চাঁদাবাজদের অত্যাচারে তারা আরও অতিষ্ঠ। অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, নব্য চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, মুহিবুল্লাহ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জাতীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।