গণ দিগন্ত প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ এবং সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের বিদ্যমান সমস্যা, জনবল সংকট, আইন ও চিকিৎসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরায় বিরোধীদলীয় নেতা ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বুয়ামা)।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে ডা. শফিকুর রহমান দেশের ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ এবং সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের বাস্তব পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট খাতের বিভিন্ন সমস্যা এবং উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এ ঘটনায় বুয়ামার সভাপতি ডা. তাওহিদ আলবেরুনী ও মহাসচিব ডা. মঈন উদ্দিন এক বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওই সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন। জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বলে মনে করেন বুয়ামার নেতারা।

তারা বলেন, দেশের ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আইন, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব সমস্যা জাতীয় সংসদের মতো সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মঞ্চে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হওয়া নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।

বুয়ামার নেতারা আরও বলেন, সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ এবং সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শুধু চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়; স্বল্পমূল্যে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সংকট দূর করা গেলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

তাদের মতে, জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট খাতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং সমস্যাগুলোর সমাধানে নীতিগত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনা স্বাস্থ্য খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এ উদ্যোগ ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করার পথকে সুগম করবে।

বুয়ামার সভাপতি ও মহাসচিব আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা শিক্ষা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন, আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তারা দেশের ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।