ডা. সিদ্দিকুর রহমান প্রামানিক

প্রকৃতি, জীবনযাপন ও রোগীর সামগ্রিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রাচীন এই চিকিৎসাপদ্ধতি আজ দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণের নতুন দিগন্তে

মানুষ যখন থেকে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে শিখেছে, তখন থেকেই শুরু হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পথচলা। আধুনিক হাসপাতাল, উন্নত ল্যাবরেটরি, অত্যাধুনিক সার্জারি কিংবা ডিজিটাল রোগ নির্ণয়ের বহু আগে মানুষ প্রকৃতি, খাদ্য, উদ্ভিদ ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে রোগ মোকাবিলা করত। সেই দীর্ঘ চিকিৎসা-ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতি।
শত শত বছরের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসাজ্ঞানকে ধারণ করে ইউনানী চিকিৎসা আজও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে এর রয়েছে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। বাংলাদেশেও ইউনানী চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা এবং ঔষধ উৎপাদনের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।
তবে সময় বদলেছে। আজকের রোগী শুধু ঐতিহ্য নয়—চান নিরাপদ, কার্যকর ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা। ফলে আধুনিক সময়ে ইউনানী চিকিৎসার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—কীভাবে ঐতিহ্যের মূল্যবান জ্ঞানকে আধুনিক গবেষণা, মান নিয়ন্ত্রণ ও রোগীর নিরাপত্তার সঙ্গে সমন্বয় করা যায়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ইউনানী চিকিৎসার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ইউনানী চিকিৎসার শিকড় কোথায়?
‘ইউনানী’ শব্দটির উৎস গ্রিক বা ‘ইউনান’ সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসাবিদ্যার বিভিন্ন ধারণা পরবর্তীকালে আরবি ও ফারসি ভাষায় অনূদিত হয় এবং মুসলিম বিশ্বের চিকিৎসাবিদদের হাতে তা ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়।
মুসলিম চিকিৎসাবিদরা শুধু প্রাচীন জ্ঞান সংরক্ষণ করেননি; বরং পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন।
এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ইবনে সিনা (Avicenna)। তাঁর বিখ্যাত চিকিৎসাগ্রন্থ আল-কানুন ফিত-তিব্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রোগের কারণ, লক্ষণ, খাদ্যাভ্যাস, ঔষধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাঁর কাজ চিকিৎসা ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
পরবর্তীকালে ভারতীয় উপমহাদেশে ইউনানী চিকিৎসা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে এবং স্থানীয় উদ্ভিদ, খাদ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর ব্যবহারিক জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ হয়।

রোগ নয়, রোগীকে দেখার চেষ্টা
ইউনানী চিকিৎসার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো রোগীকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করার প্রবণতা।
একজন রোগীর শুধু একটি উপসর্গ আছে—এমনভাবে বিষয়টিকে না দেখে তার বয়স, দৈহিক গঠন, খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, পরিবেশ, মানসিক অবস্থা ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করার ঐতিহ্য রয়েছে।
ইউনানী তত্ত্বে মিজাজ (Temperament) একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। একই রোগে আক্রান্ত দুই ব্যক্তির শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও জীবনযাপন এক না হওয়ায় চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ব্যক্তিভেদে পার্থক্যের কথা বলা হয়।
এই রোগীকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ‘personalized’ বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবার ধারণার কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তবে ঐতিহ্যগত ইউনানী তত্ত্বের প্রতিটি ধারণাকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা না করে গবেষণার মাধ্যমে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য রক্ষায় শুধু ঔষধ নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ
ইউনানী চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—সুস্থ থাকার জন্য শুধু ঔষধের ওপর নির্ভর করলেই হবে না; জীবনযাপনও হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত।
ইউনানী ঐতিহ্যে ‘আসবাবে সিত্তায়ে জরুরিয়া’ বা ছয়টি প্রয়োজনীয় বিষয়ের কথা বলা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. বায়ু ও পরিবেশ: বিশুদ্ধ বাতাস ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
২. খাদ্য ও পানীয়: পরিমিত ও উপযুক্ত খাদ্য গ্রহণ।
৩. শারীরিক চলাফেরা ও বিশ্রাম: শরীরকে সক্রিয় রাখা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।
৪. মানসিক ও শারীরিক কর্মকাণ্ড: কাজ ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য।
৫. ঘুম ও জাগরণ: নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম।
৬. দেহের বর্জ্য ও নিঃসরণ: শরীরের স্বাভাবিক বর্জ্য নিষ্কাশনের ভারসাম্য বজায় রাখা।
আজকের জনস্বাস্থ্য ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সুষম খাদ্য, শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের যে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার সঙ্গে এসব বিষয়ের কিছুটা সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়।

ভেষজের বিশাল ভাণ্ডার
ইউনানী চিকিৎসার সঙ্গে ভেষজ ঔষধের ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিভিন্ন উদ্ভিদ, উদ্ভিদের অংশ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান থেকে ঔষধ প্রস্তুতের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।
বাংলাদেশের মতো জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ দেশে এই ক্ষেত্রের সম্ভাবনা আরও ব্যাপক। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায় নানা ধরনের ঔষধি উদ্ভিদ। প্রাচীন চিকিৎসা জ্ঞান ও স্থানীয় ভেষজ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আধুনিক গবেষণার আওতায় আনা গেলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি—
প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া উপাদান মানেই যে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত, তা নয়।
ভেষজ উপাদানের সঠিক পরিচয়, বিশুদ্ধতা, মাত্রা, প্রস্তুতপ্রণালি, সংরক্ষণ, অন্যান্য ঔষধের সঙ্গে সম্ভাব্য পারস্পরিক ক্রিয়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান প্রয়োজন।
এ কারণে আধুনিক ইউনানী ঔষধ উৎপাদনে GMP (Good Manufacturing Practice), মান নিয়ন্ত্রণ, কাঁচামালের পরীক্ষা, সঠিক ফর্মুলেশন ও নিরাপদ সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আধুনিক গবেষণার সঙ্গে ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন
ইউনানী চিকিৎসার সামনে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ—দুটিই একই জায়গায়: বৈজ্ঞানিক গবেষণা।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যবান হলেও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় কোনো চিকিৎসা বা ঔষধের কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা অপরিহার্য।
ভেষজ ঔষধের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—
কাঁচামালের সঠিক পরিচিতি ও মান যাচাই;
সক্রিয় উপাদান শনাক্তকরণ;
ফর্মুলেশনের মান নিয়ন্ত্রণ;
নিরাপত্তা ও বিষাক্ততা মূল্যায়ন;
প্রয়োজন অনুযায়ী ক্লিনিক্যাল গবেষণা;
ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ;
উৎপাদন ও সংরক্ষণে GMP অনুসরণ।
এভাবে ঐতিহ্যগত জ্ঞানকে আধুনিক গবেষণার মাধ্যমে যাচাই ও উন্নত করা গেলে ইউনানী চিকিৎসা আরও শক্তিশালী ভিত্তি পেতে পারে।

রোগ নির্ণয়ে আধুনিকতার প্রয়োজন
বর্তমান যুগে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। অনেক রোগের লক্ষণ একই রকম হতে পারে, আবার কোনো কোনো জটিল রোগের প্রাথমিক লক্ষণ খুবই সাধারণ।
তাই আধুনিক ইউনানী চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, ইমেজিং ও অন্যান্য আধুনিক ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে গুরুতর, জটিল বা জরুরি অবস্থায় রোগীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রয়োজন হলে অন্যান্য চিকিৎসাব্যবস্থার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং রোগীকে উপযুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে রেফার করাও একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।

ইউনানী চিকিৎসা ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা: বিরোধ নয়, সমন্বয়ের সুযোগ
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য একটাই—মানুষকে নিরাপদ ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া।
আধুনিক চিকিৎসা যেমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে, তেমনি ইউনানী চিকিৎসার রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার।
দুই ধারার মধ্যে অযথা প্রতিযোগিতার পরিবর্তে যেখানে বৈজ্ঞানিকভাবে উপযোগী, সেখানে সমন্বিত গবেষণা ও সহযোগিতা নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষ করে—
ঔষধি উদ্ভিদ গবেষণা + আধুনিক ফার্মাকোলজি + মান নিয়ন্ত্রণ + ক্লিনিক্যাল গবেষণা
এই সমন্বয় ইউনানী চিকিৎসার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশে ইউনানী চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। পাশাপাশি দেশে ইউনানী ঔষধ উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
এই খাতকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন—
শিক্ষায় আধুনিকীকরণ, গবেষণায় বিনিয়োগ, মানসম্পন্ন কাঁচামাল, GMP-ভিত্তিক উৎপাদন, দক্ষ জনবল, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ।
বাংলাদেশের স্থানীয় ঔষধি উদ্ভিদ ও ভেষজ সম্পদ নিয়ে গবেষণা বাড়ানো গেলে দেশের নিজস্ব জ্ঞান ও সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নতুন ঔষধ উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ভেষজ ও ঐতিহ্যবাহী ঔষধের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে পণ্যের মান, নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সবচেয়ে বড় শক্তি—মানুষের প্রতি দায়িত্ব
একজন ইউনানী চিকিৎসকের দায়িত্ব শুধু প্রেসক্রিপশন লেখা নয়। রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, জীবনযাপন সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো, ঔষধের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জটিল পরিস্থিতিতে দ্রুত রেফার করা—সবই একজন চিকিৎসকের দায়িত্বের অংশ।
একইভাবে রোগীরও দায়িত্ব রয়েছে চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং নিজের ইচ্ছায় ঔষধের মাত্রা পরিবর্তন না করা।
চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় দক্ষতা, সততা, নিরাপত্তা ও ফলপ্রসূ সেবার মাধ্যমে।
ভবিষ্যতের ইউনানী চিকিৎসা কেমন হতে পারে?
আগামী দিনের ইউনানী চিকিৎসা হতে পারে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে থাকবে—
ঐতিহ্যগত চিকিৎসাজ্ঞান
আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা
উন্নত মান নিয়ন্ত্রণ
GMP-ভিত্তিক ঔষধ উৎপাদন
রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা
সঠিক রোগ নির্ণয়
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা
ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা
অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়
অর্থাৎ, ঐতিহ্যকে অস্বীকার নয়—বরং গবেষণার মাধ্যমে ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করা।

উপসংহার: ঐতিহ্য থাকবে, এগিয়ে যাবে বিজ্ঞান
ইউনানী চিকিৎসা শুধু অতীতের একটি স্মৃতি নয়। এটি শত শত বছরের চিকিৎসা-অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও জ্ঞানকে ধারণ করে বর্তমানেও টিকে থাকা একটি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি।
তবে আধুনিক যুগে এর অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে শুধু অতীতের গৌরবের কথা বললেই হবে না। প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন, মানসম্মত ঔষধ উৎপাদন, আধুনিক রোগ নির্ণয় এবং রোগীর নিরাপত্তার প্রতি সর্বোচ্চ অঙ্গীকার।
প্রাচীন জ্ঞান যখন আধুনিক বিজ্ঞানের আলোয় নতুন করে মূল্যায়িত হয়, তখন ঐতিহ্য শুধু সংরক্ষিত থাকে না—তা ভবিষ্যতের জন্য আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।
ইউনানী চিকিৎসার সামনের পথ তাই হতে পারে—
“ঐতিহ্যের শিকড়ে, বিজ্ঞানের আলোয়—নিরাপদ ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবার নতুন সম্ভাবনা।”

লেখক পরিচিতি: বিইউএমএস,এমপিএইচ,( নিউট্রিশন) এইচ ইউবি, ডিইউএমএস, ঢাকা
প্রতিষ্ঠাতা স্বত্বাধিকারী, মডাণ শেফা ক্লিনিক