পানির ন্যায্য অধিকার আদায়ে যত দূর যেতে হয়, সরকার সে চেষ্টা করবে: প্রধানমন্ত্রী
রাজশাহী প্রতিনিধি :
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সরকার যত দূর যেতে হয়, সে চেষ্টা করবে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দানে বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এ ছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এমপি, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এমপি, আবু সাঈদ চাঁদ এমপি, মাহমুদা হাবিবা এমপি, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত, কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং আরডিএর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করা এবং পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাজশাহী অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলায় খাল খনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পানির সমস্যা সমাধান জরুরি।
তিনি জানান, পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের নির্মাণকাজ শুরু ও শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। এর সুফল প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ পেতে পারেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচসুবিধা সম্প্রসারণ এবং পানির সংকট মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১ হাজার ৩০০ শয্যা রয়েছে। সেটিকে ২ হাজার ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা এবং এক বছরের মধ্যে আরও ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মানুষ ফল ও ছায়া পাবে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণের মতো কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত না করার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—উভয়কেই ধারণ করে।
জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার বিকাশের জন্য স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া রাজশাহীর ধর্মসভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং কিছু আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

