গণ দিগন্ত | জাতীয় সংবাদ

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, একটি মুক্ত, বৈষম্যহীন, ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক এবং যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁরা অটল রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সাত মাসের বেশি সময় আলোচনা শেষে বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি হয়। পরে ২০২৫ সালে সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা এতে স্বাক্ষর করেন।

তিনি বলেন, তাঁদের দাবি ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করা। কিন্তু একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয় দুটি গুলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াত আমীরের দাবি, গণভোটে অধিকাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। জনগণের এই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদের গণরায় বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিএনপির সমালোচনা

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংবিধানের যেসব জায়গায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে একাধিকবার সংবিধান সংশোধন করা হলেও তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই পুরোনো প্রক্রিয়ায় ফিরে না গিয়ে কার্যকর ও টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাঁরা অটল থাকবেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালনে তাঁরা পিছপা হবেন না।

আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও জনদুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ

বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রবাস থেকে ফিরে আসা কর্মীদের জন্যও সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, জনগণকে স্বস্তি দেওয়া এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে করের বোঝা ও নিত্যদিনের দুর্ভোগ কমিয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থান দেওয়ার অভিযোগও তোলেন জামায়াত আমীর। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সভায় বিএনপির কোনো বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।

📰

আপনার এলাকার সংবাদ প্রকাশ করতে চান?

এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, ঘটনা ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরুন সবার সামনে। ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ আপনার সংবাদ পাঠান গণদিগন্তের কাছে।

✉ সংবাদ পাঠান
📢

আপনার ব্যবসার প্রচার হোক সবার কাছে!

আপনার প্রতিষ্ঠান, পণ্য কিংবা সেবার প্রচারে বেছে নিন গণদিগন্ত। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে পৌঁছে যান অসংখ্য পাঠকের কাছে।

📣 বিজ্ঞাপন দিন
🌐

প্রতিদিনের খবর জানতে সঙ্গে থাকুন গণদিগন্তের!

দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও স্থানীয় খবর জানতে নিয়মিত পড়ুন গণদিগন্ত।

📰 গণদিগন্ত পড়ুন | গ্রাহক হোন

জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের আন্দোলন কোনো দল বা ব্যক্তির নিজস্ব স্বার্থে নয়; বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হলেও তাঁরা ন্যায়সংগত দাবি থেকে সরে আসবেন না।

তিনি বলেন, তাঁরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করার আহ্বান জানান তিনি।

আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই কর্মসূচি ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র বা বাধা সৃষ্টি করা হলে তা মোকাবিলা করে তাঁরা নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাবেন।

অন্যান্য নেতার বক্তব্য

আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমছে, কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংসদের স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সভাপতিত্বের মতো বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনেরও আহ্বান জানান তিনি।

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসিরও জুলাই সনদের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানান। সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী সরকারের দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ ও রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা করেন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী নেতাদের অংশগ্রহণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ড. মো. রেজাউল করিমের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

এ ছাড়া সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা জুলাই জাতীয় সনদের গণরায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।