ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত বেড়ে ১০
অনুমোদন ছাড়াই চলছিল রিসোর্ট, আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করেছিল ফায়ার সার্ভিস
নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটোয়ারটেক সৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পরে সেখানে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। অভিযানে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
অনুমোদন ছাড়াই চলছিল রিসোর্ট
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অনুমোদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকায় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সও ছিল না।
তিনি আরও জানান, গত জুন মাসে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক নোটিশ দিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। তবে সেই সতর্কতার পরও রিসোর্টটির কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান চলছে
এদিকে, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে কী পরিমাণ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় কাঠের তৈরি রিসোর্ট পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করার পরও কীভাবে রিসোর্টটির কার্যক্রম চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
১০ জনের প্রাণহানির এই ঘটনা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

