গণ দিগন্ত প্রতিবেদন

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে হাজির ১১ আসামি, পলাতক ২২

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে শুরু থেকেই ২২ জন পলাতক। কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ নয়জনকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা দুই আসামিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য মামলায় কারাগারে আটক থাকায় মুহাম্মদ বদিউজ্জামানকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়নি।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলদের অব্যাহতির আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

মামলার অন্য আসামিরা

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।

এ ছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল।

যেভাবে হত্যা মামলাটি দায়ের হয়

📰

আপনার এলাকার সংবাদ প্রকাশ করতে চান?

এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, ঘটনা ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরুন সবার সামনে। ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ আপনার সংবাদ পাঠান গণদিগন্তের কাছে।

✉ সংবাদ পাঠান
📢

আপনার ব্যবসার প্রচার হোক সবার কাছে!

আপনার প্রতিষ্ঠান, পণ্য কিংবা সেবার প্রচারে বেছে নিন গণদিগন্ত। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে পৌঁছে যান অসংখ্য পাঠকের কাছে।

📣 বিজ্ঞাপন দিন
🌐

প্রতিদিনের খবর জানতে সঙ্গে থাকুন গণদিগন্তের!

দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও স্থানীয় খবর জানতে নিয়মিত পড়ুন গণদিগন্ত।

📰 গণদিগন্ত পড়ুন | গ্রাহক হোন

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওই দিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। পথে চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

আমির হোসেন আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি

এদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

সোমবার চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আমির হোসেন আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ইতিমধ্যে প্রসিকিউশনে জমা হয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে তা দাখিলের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের দায়িত্বের অভিযোগ আনার প্রস্তুতি চলছে। জুলাই গণহত্যাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট বৈঠকে তাঁদের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করার কথা জানানো হয়েছে।

এই সাতজন হলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।