এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই: প্রতিমন্ত্রী
গণদিগন্ত প্রতিবেদক:
এমপিওভুক্ত ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকদের পদমর্যাদা, জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে জাতীয়করণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছিলেন মীর শাহে আলম। সে সময় তিনি বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা-২০২৫ বিবেচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ করা প্রয়োজন। এ জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলেও শিক্ষকদের দাবি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তিনি শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেনসহ শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

