প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
গণদিগন্ত জাতীয় ডেস্ক
পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু নতুন নগর গড়ে তোলা নয়; বরং এমন নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও বাসযোগ্য নগর নিশ্চিত করা, যেখানে নাগরিকরা সাশ্রয়ী আবাসন এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পাবেন।
বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দিবসটি অক্টোবরের প্রথম সোমবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে।
পরিকল্পিত নগরায়নকে অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বাংলাদেশে পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসনের পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।
এ লক্ষ্যে আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়নের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসনে গুরুত্ব
নগর উন্নয়নের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষ ও বস্তিবাসীদের আবাসন সমস্যাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের সুফল যেন কেবল উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন এবং সুষম নগর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বস্তিবাসীদের দীর্ঘদিনের আবাসনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে মালিকানা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শুধু ঘর নয়, প্রয়োজন নাগরিক সেবাও
‘সবার জন্য বাসস্থান’ বলতে শুধু মাথা গোঁজার একটি ঘরকে বোঝায় না—এমন দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার নিশ্চয়তাও আবাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবেন।
যানজট, দূষণ ও আবাসন সংকট বড় চ্যালেঞ্জ
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও নগর দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর মধ্যে যানজট, পরিবেশদূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা, আবাসন সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের স্থানান্তরকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
কয়েকটি শহরে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করতে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তার মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুষম নগরায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা—এসডিজি-১১ অর্জনেও এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি অংশগ্রহণ
টেকসই নগর ও আবাসন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ কাজে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন, বস্তি উন্নয়ন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রাম-শহর নির্বিশেষে বাসযোগ্য বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শহর ও গ্রামের মানুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা এবং পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
গণদিগন্ত জাতীয় ডেস্ক

