নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে তুলনামূলক কম বয়সে আকস্মিক ও অকালমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও অনেকের শরীরে নীরবে বাসা বাঁধছে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না হওয়ায় এসব রোগ কখনো কখনো আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশের সঙ্গে স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ জড়িত। এসব রোগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে ৭০ বছর বয়সের আগেই মৃত্যু ঘটছে।

১. হৃদ্‌রোগ ও হার্ট অ্যাটাক

কম বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হৃদ্‌রোগ। হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনি বন্ধ হয়ে গেলে হার্টের পেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। এর ফলেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

শুধু বয়স্কদেরই হার্ট অ্যাটাক হয়—এমন ধারণা ঠিক নয়। আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ ব্যক্তিরও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা, ব্যথা হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব বা বমি—এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

২. স্ট্রোক

আকস্মিক মৃত্যুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্ট্রোক। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে অথবা কোনো রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে স্ট্রোক হতে পারে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়লেও বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও এ রোগ দেখা যাচ্ছে।

হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া, হাত-পা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, ভারসাম্য হারানো কিংবা অস্বাভাবিক মাথা ঘোরা—স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হতে পারে।

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমানোর সুযোগ থাকে।

৩. ডায়াবেটিস

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা এক কোটির বেশি। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আবার জানেনই না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস হৃদ্‌রোগ, কিডনি জটিলতা, স্ট্রোকসহ নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

📰

আপনার এলাকার সংবাদ প্রকাশ করতে চান?

এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, ঘটনা ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরুন সবার সামনে। ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ আপনার সংবাদ পাঠান গণদিগন্তের কাছে।

✉ সংবাদ পাঠান
📢

আপনার ব্যবসার প্রচার হোক সবার কাছে!

আপনার প্রতিষ্ঠান, পণ্য কিংবা সেবার প্রচারে বেছে নিন গণদিগন্ত। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে পৌঁছে যান অসংখ্য পাঠকের কাছে।

📣 বিজ্ঞাপন দিন
🌐

প্রতিদিনের খবর জানতে সঙ্গে থাকুন গণদিগন্তের!

দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও স্থানীয় খবর জানতে নিয়মিত পড়ুন গণদিগন্ত।

📰 গণদিগন্ত পড়ুন | গ্রাহক হোন

৪. দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ

অ্যাজমা ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির মতো রোগ দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

ধূমপান, বায়ুদূষণ এবং ঘরে কাঠ, লাকড়ি, গোবর বা অন্যান্য কঠিন জ্বালানি ব্যবহারের ধোঁয়া এসব রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

দীর্ঘদিনের কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুক চাপ লাগা এবং স্বাভাবিক কাজকর্মে দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৫. ক্যান্সার

বাংলাদেশে ক্যান্সারও মৃত্যুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে ফুসফুস, মুখ ও গলা, পাকস্থলী, স্তন এবং জরায়ুমুখের ক্যান্সার উল্লেখযোগ্য।

ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শুরুতেই রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সুযোগ অনেক বেশি থাকে। কিন্তু অনেক মানুষ প্রাথমিক উপসর্গকে গুরুত্ব না দেওয়ায় রোগ শনাক্ত হয় দেরিতে।

কেন বাড়ছে অকালমৃত্যু?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তিত জীবনযাপন, তামাক ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং বায়ুদূষণের মতো বিভিন্ন কারণ অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা অকালমৃত্যু কমাতে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন—রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং তামাক এড়িয়ে চলা ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে বুকে তীব্র ব্যথা, হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো জরুরি লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত।