গণদিগন্ত প্রতিবেদক

রাজধানীতে জামায়াত বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জনদুর্ভোগ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট, শিল্প খাত এবং বিরোধী দলের চলমান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মগবাজারের আলফালাহ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, আব্দুর রব, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গ

মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটকে উপেক্ষা করার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট, গার্মেন্ট শিল্প এবং বিরোধী দলের চলমান লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কেও সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান। এসব সমস্যা কোনো ইউনিয়ন বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হলে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও মতামতও শোনেন জামায়াতের আমীর।

‘সংসদে পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাই না’

বিরোধী দলের ভূমিকা ও সরকারি দলের আচরণ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে বিরোধী দল বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দিলেও তা গ্রহণ করা হয় না।

তিনি বলেন, অতীতের মতো সংসদে ফাইল ছোড়াছুড়ি কিংবা চেয়ার ছুড়ে স্পিকার হত্যার মতো জঘন্য সংস্কৃতি তারা ফিরিয়ে আনতে চান না। জনগণের দাবি আদায়ের জন্য সে কারণেই রাজপথে কর্মসূচি পালন করতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ’

গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের সংবিধান স্বীকৃত তিনটি স্তম্ভ হলো আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এর বাইরে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষায়, “গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে।”

সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যম যেন কালোকে কালো এবং সাদাকে সাদা হিসেবে তুলে ধরে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর বহুমুখী চাপ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমীর।

📰

আপনার এলাকার সংবাদ প্রকাশ করতে চান?

এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, ঘটনা ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরুন সবার সামনে। ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ আপনার সংবাদ পাঠান গণদিগন্তের কাছে।

✉ সংবাদ পাঠান
📢

আপনার ব্যবসার প্রচার হোক সবার কাছে!

আপনার প্রতিষ্ঠান, পণ্য কিংবা সেবার প্রচারে বেছে নিন গণদিগন্ত। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে পৌঁছে যান অসংখ্য পাঠকের কাছে।

📣 বিজ্ঞাপন দিন
🌐

প্রতিদিনের খবর জানতে সঙ্গে থাকুন গণদিগন্তের!

দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও স্থানীয় খবর জানতে নিয়মিত পড়ুন গণদিগন্ত।

📰 গণদিগন্ত পড়ুন | গ্রাহক হোন

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যও বাড়ছে। এর প্রভাব দেশীয় পণ্যের বাজারেও পড়ছে এবং সামগ্রিকভাবে সমাজে এর ব্যাপক প্রভাব তৈরি হচ্ছে।

জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা জনগণের স্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরছেন এবং সাংবাদিকদেরও এসব বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাদের কথা না শুনলে আন্দোলন চলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই বিষয়টির ফয়সালা হবে।

লংমার্চ নিয়ে জামায়াত আমীরের বক্তব্য

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবও দেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, লংমার্চে তারা প্রতীকীভাবে কয়েকশ গাড়ি নিয়ে অংশ নিয়েছেন। প্রয়োজন হলে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি পালন করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

তার দাবি, লংমার্চের দাবিগুলো কোনো একক রাজনৈতিক দলের দাবি নয়; এগুলো জনগণের দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত। অতীতেও এ ধরনের লংমার্চ হয়েছে এবং সে সময় সরকারি দলের লোকজনও তাদের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমীর।

তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল লংমার্চ কর্মসূচি বানচাল করার জন্য বিরোধী দল নিজেরাই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাবে—এমন অভিযোগ যুক্তিসংগত নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, লংমার্চে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে অন্য পক্ষ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এর আগে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তাদের সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক থাকবে বলেও তিনি জানান।

লংমার্চ কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের কোনো ধরনের কষ্ট বা ভোগান্তি হয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভার বক্তব্য পর্ব শেষে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।