বিশেষ প্রতিবেদন | গণদিগন্ত

আজ ২২ সেপ্টেম্বর। ১৯৭৯ সালের এই দিনে ইন্তেকাল করেন উপমহাদেশের প্রভাবশালী ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক ও ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী (রাহ.)। ১৯০৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ভারতের আওরঙ্গাবাদে জন্ম নেওয়া এই মনীষী ৭৬ বছরের জীবনে বিপুল সাহিত্যকর্ম, গবেষণা, সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যান।

তাঁর জীবন ছিল একই সঙ্গে জ্ঞানচর্চা, লেখালেখি, দাওয়াহ, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবরণ ও অসুস্থতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলার এক দীর্ঘ অধ্যায়। তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি আধুনিক ইসলামী জাগরণের অন্যতম প্রধান চিন্তাবিদ; অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চিন্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ও সমালোচনাও রয়েছে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, বিংশ শতাব্দীর মুসলিম বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে তাঁর নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত।

শৈশব থেকেই জ্ঞানচর্চার পরিবেশ

১৯০৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আওরঙ্গাবাদে জন্মগ্রহণ করেন আবুল আ’লা মওদূদী। তাঁর পরিবার ছিল ধর্মীয় ও শিক্ষিত পরিবেশে গড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই তিনি আরবি, ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনে নানা বাধা এলেও পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ কখনো থেমে থাকেনি। পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে নিয়মিত শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার পরও তিনি ব্যক্তিগত অধ্যয়ন ও গবেষণাকে নিজের শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেন।

কৈশোরেই তাঁর লেখালেখির প্রতিভা প্রকাশ পেতে শুরু করে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯২০ সালে জবলপুরের ‘তাজ’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ১৯১৮ সালে বিজনৌরের ‘মদিনা’ পত্রিকায় কাজ করার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা ঘটে। সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমকালীন রাজনীতি, সমাজ ও মুসলিম বিশ্বের সংকট সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবার সুযোগ পান।

সাংবাদিকতা থেকে গবেষণার জগতে

১৯২০-এর দশকে মওদূদী সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইসলামী জ্ঞানচর্চায় গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন। ‘আল-জামিয়াত’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষার বিভিন্ন শাখায় অধ্যয়ন করেন এবং আরবি সাহিত্য, হাদিস, ফিকহ, যুক্তিবিদ্যা ও অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন।

১৯২৬ সালে তিনি ইসলামী ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে সনদ লাভ করেন। ১৯২৮ সালে জামে তিরমিজি ও মুয়াত্তা ইমাম মালিক অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন। এ সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর।

‘আল-জিহাদ ফিল ইসলাম’: চিন্তার জগতে নতুন পরিচয়

মওদূদীর বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল ‘আল-জিহাদ ফিল ইসলাম’। ইসলামে জিহাদ, যুদ্ধ ও শান্তি এবং সংশ্লিষ্ট নৈতিক ও আইনগত প্রশ্ন নিয়ে গবেষণার ভিত্তিতে রচিত এ গ্রন্থ ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।

এই বই প্রকাশের পর তিনি মুসলিম বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। গ্রন্থটির মাধ্যমে তিনি আধুনিক যুগের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করার একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি তুলে ধরেন।

‘তরজুমানুল কুরআন’: চিন্তার একটি নতুন মঞ্চ

১৯৩২ সালে হায়দরাবাদ থেকে তিনি ‘তরজুমানুল কুরআন’ প্রকাশ শুরু করেন। পরবর্তীতে এই পত্রিকা তাঁর ইসলামী চিন্তা, কুরআন ব্যাখ্যা ও সমকালীন সমাজ-সভ্যতা নিয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে।

মওদূদীর লেখার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি ধর্মীয় বিষয়কে শুধু ঐতিহ্যগত আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতি, সভ্যতা, রাষ্ট্র ও নৈতিকতার মতো আধুনিক প্রশ্নগুলোকে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন।

ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক রূপ

১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট লাহোরে ৭৫ জন সদস্যের অংশগ্রহণে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মওদূদী প্রথম আমীর নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি একটি সুসংগঠিত ইসলামী আন্দোলনের রূপ লাভ করে।

মওদূদীর চিন্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল—ইসলামকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করতেন না। তাঁর লেখায় ইসলামকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, আইন, শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

দেশভাগ ও পাকিস্তান পর্ব

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীও ভারত ও পাকিস্তানে পৃথক সাংগঠনিক কাঠামোয় কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। মওদূদী পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব দেন। পাকিস্তানের নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামী নীতির ভূমিকা কী হবে—এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তিনি সক্রিয় বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪৮ সাল থেকে ইসলামী সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে তাঁর প্রচার-প্রচারণা জোরদার হয়। এ সময় তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে কারাবরণও করতে হয়। পাকিস্তানের রাষ্ট্রকাঠামো ও সংবিধানে ইসলামী নীতির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তাঁর ভূমিকা পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কারাবরণ ও ‘কাদিয়ানি সমস্যা’

মওদূদীর জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় ১৯৫৩ সালের ঘটনা। ‘কাদিয়ানি সমস্যা’ গ্রন্থসহ তাঁর লেখালেখিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে তীব্র রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর সামরিক কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই সাজা পরিবর্তিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মুক্তি লাভ করেন।

এই অধ্যায়টি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি। তাঁর সমর্থকেরা এটিকে ইসলামী আকিদা ও রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তাঁর দৃঢ়তার উদাহরণ হিসেবে দেখেন; অন্যদিকে সমালোচকেরা ১৯৫৩ সালের আন্দোলনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন।

‘তাফহীমুল কুরআন’: জীবনের সবচেয়ে বড় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকল্প

মওদূদীর সবচেয়ে পরিচিত রচনার নাম ‘তাফহীমুল কুরআন’। ১৯৪২ সালে এর রচনা শুরু হয় এবং প্রায় তিন দশকের শ্রমের পর ১৯৭২ সালে এর কাজ সম্পন্ন হয়। এটি ছয় খণ্ডে প্রকাশিত একটি বিস্তৃত তাফসির।

📰

আপনার এলাকার সংবাদ প্রকাশ করতে চান?

এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, ঘটনা ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরুন সবার সামনে। ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ আপনার সংবাদ পাঠান গণদিগন্তের কাছে।

✉ সংবাদ পাঠান
📢

আপনার ব্যবসার প্রচার হোক সবার কাছে!

আপনার প্রতিষ্ঠান, পণ্য কিংবা সেবার প্রচারে বেছে নিন গণদিগন্ত। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে পৌঁছে যান অসংখ্য পাঠকের কাছে।

📣 বিজ্ঞাপন দিন
🌐

প্রতিদিনের খবর জানতে সঙ্গে থাকুন গণদিগন্তের!

দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও স্থানীয় খবর জানতে নিয়মিত পড়ুন গণদিগন্ত।

📰 গণদিগন্ত পড়ুন | গ্রাহক হোন

তাফহীমুল কুরআনের লক্ষ্য ছিল আধুনিক শিক্ষিত পাঠকের কাছে কুরআনের বক্তব্যকে সহজ, প্রাঞ্জল ও যুক্তিনির্ভর ভাষায় উপস্থাপন করা। কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যার পাশাপাশি তিনি আয়াতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সামাজিক তাৎপর্য ও সমকালীন জীবনের সঙ্গে এর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।

দীর্ঘ সময় ধরে লেখা এই গ্রন্থ তাঁর জীবনের কেন্দ্রীয় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকল্পে পরিণত হয়েছিল।

নেতৃত্ব থেকে অবসর

১৯৭২ সালে দীর্ঘ ৩১ বছর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্ব দেওয়ার পর স্বাস্থ্যগত কারণে মওদূদী আমীরের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপরও তিনি লেখালেখি, গবেষণা ও পরামর্শদানের কাজে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়েও গবেষণা ও লেখালেখি থেমে যায়নি। তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও দাওয়াত নিয়ে ‘সীরাতে সারওয়ারে আলম’ রচনা করেন। অসুস্থতার কারণে কাজটি পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ করতে পারেননি; ১৯৭৮ সালে এর দুই খণ্ড প্রকাশিত হয়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

১৯৭৯ সালে ইসলামের জন্য তাঁর ধর্মীয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ও একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর পক্ষে তাঁর ছেলে ও মাওলানা খলিল আহমদ হামিদি পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এ স্বীকৃতি তাঁর আন্তর্জাতিক পরিচিতিরও প্রতিফলন ছিল। তাঁর লেখা ভারতীয় উপমহাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠ ও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

শেষ যাত্রা

জীবনের শেষ দিকে মওদূদীর শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যায়। চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। নিউইয়র্কের বাফেলোতে অবস্থানকালে ১৯৭৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৬ বছর।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তাঁর মরদেহ পাকিস্তানে নেওয়া হয়। লাহোরে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে তাঁকে লাহোরের ৫-এ জাইলদার পার্কে সমাহিত করা হয়।

যে উত্তরাধিকার রেখে গেলেন

মওদূদীর উত্তরাধিকার মূলত তিনটি ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পষ্ট—লেখালেখি, চিন্তাচর্চা এবং সাংগঠনিক আন্দোলন।

তিনি কুরআন, হাদিস, ইসলামী আইন, ইতিহাস, সভ্যতা, অর্থনীতি, শিক্ষা, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে অসংখ্য বই ও প্রবন্ধ লিখেছেন। তাঁর লেখার একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল আধুনিক বিশ্বের প্রশ্নগুলোর সঙ্গে ইসলামী চিন্তার সরাসরি সংযোগ স্থাপন।

তাঁর চিন্তার সঙ্গে একমত ও ভিন্নমত—উভয় ধরনের পাঠকই আজ তাঁর রচনাকে আলোচনায় রাখেন। বিশেষ করে ইসলামী রাষ্ট্রচিন্তা, রাজনৈতিক ইসলাম, কুরআনের তাফসির এবং আধুনিক মুসলিম সমাজ নিয়ে গবেষণায় তাঁর রচনাগুলো এখনো আলোচিত।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীও পরবর্তীতে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পৃথক সাংগঠনিক কাঠামোয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে মওদূদীর চিন্তার প্রভাব শুধু তাঁর জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; তাঁর মৃত্যুর পরও তা বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় আলোচনার অংশ হয়ে রয়েছে।

উপসংহার

একটি মানুষের জীবনের মূল্যায়ন শুধু তাঁর পদ-পদবি দিয়ে হয় না; তাঁর চিন্তা কতটা সময়কে প্রভাবিত করেছে, কত মানুষের চিন্তার জগতে প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের ওপর কতটা ছাপ রেখে গেছে—সেটিও ইতিহাসের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ।

সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদীর জীবন ছিল এমনই এক দীর্ঘ বুদ্ধিবৃত্তিক যাত্রা। সাংবাদিকতা দিয়ে শুরু, এরপর গবেষণা, লেখালেখি, কুরআন অধ্যয়ন, ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক রূপদান, কারাবরণ এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জ্ঞানচর্চা—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল কর্মময়।

১৯৭৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর শারীরিক জীবনের অবসান ঘটে। কিন্তু তাঁর লেখা বই, বিশেষ করে ‘তাফহীমুল কুরআন’, ‘আল-জিহাদ ফিল ইসলাম’ ও ‘সীরাতে সারওয়ারে আলম’, এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাংগঠনিক উত্তরাধিকার তাঁকে মুসলিম বিশ্বের আধুনিক ইতিহাসে আলোচিত এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ধরে রেখেছে।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে স্মরণ করছেন শ্রদ্ধার সঙ্গে। ইতিহাসের বিচারে তাঁর চিন্তা, কর্ম ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাঁর বিস্তৃত সাহিত্যকর্ম ও বিংশ শতাব্দীর ইসলামী চিন্তায় তাঁর প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

আল্লাহ তাআলা মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী (রাহ.)-এর দ্বীনি খেদমত কবুল করুন, তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

— গণদিগন্ত বিশেষ প্রতিবেদন