মান্দায় ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র বন্ধ, সেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর (হাট-চকগৌরী) এলাকায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি অবকাঠামো নির্মাণের পরও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও শিশুরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আধুনিক অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরির পরও চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় হাসপাতালটি কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না। ফলে চিকিৎসার জন্য এলাকার নিম্নআয়ের মানুষকে দূরের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময় ও যাতায়াতের ভোগান্তিও বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটির অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয় ২০২১ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়ন না হওয়ায় ১০ শয্যার এই বিশেষায়িত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ফার্মাসিস্ট ও টেকনোলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেই অনুযায়ী জনবল নেই। ফলে অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য কাছাকাছি একটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও প্রসূতি মায়েদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি অনেক সময় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও জানান, সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে হাসপাতাল নির্মাণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এর সুফল পাচ্ছেন না তারা। দ্রুত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানান তারা।
মান্দা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেখদরবার শরীফুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালে হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও জনবল নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি না হওয়ায় সেখানে জনবল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার জন্য স্থানীয়ভাবে একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও একজন ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের সংকট থাকায় সেবাপ্রত্যাশীদের পুরোপুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হলে স্থানীয় মানুষের চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের দাবি, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ এবং পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক। এতে মান্দার প্রত্যন্ত এলাকার হাজারো মানুষ কাছাকাছি থেকেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

