ঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে ছাত্রশিবিরের নিন্দা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
গণদিগন্ত ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
১৫ সেপ্টেম্বর এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।
তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের তৎপরতা ও কথিত গোপন নেটওয়ার্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ছাত্রশিবির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা ঘাটতির সুযোগ নিয়েই ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটানোর সাহস পেয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করা হয়। নেতৃবৃন্দের দাবি, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের আবাসন এবং অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর হলেও ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের তৎপরতা মোকাবিলায় একই ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কথিত গোপন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং যাদের তারা ‘ফ্যাসিবাদী অপশক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তাদের পুনর্বাসন বন্ধ করা।
ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

