বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার তার দুই সন্তানকে নিয়ে ডাকসু ভবনের সংগ্রহশালায় যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি জিন্নাহর ছবি নিয়ে আপত্তি জানান এবং একপর্যায়ে প্রদর্শিত ছবিতে ভাঙচুর করেন।

ঘটনার সময় তিনি প্রথমে একটি ছবি ভেঙে ফ্রেম থেকে বের করে ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সংগ্রহশালায় থাকা আরও দুটি ছবি মেঝেতে আছড়ে ভাঙচুর করা হয় এবং সেগুলোও ফ্রেম থেকে খুলে ফেলা হয়।

‘ইতিহাস ভুলে যাইনি’

ছবি ভাঙচুরের পর আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো প্রতীক ডাকসুর মতো প্রতিষ্ঠানে থাকা উচিত নয়। তিনি জিন্নাহকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, কেন তার ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় রাখা হবে।

এ সময় তিনি ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের উদ্দেশেও বক্তব্য দেন। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার বিতর্ক এবং ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

তৈয়বের বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তার দাবি, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের আলোকে জিন্নাহর ছবি ডাকসুতে প্রদর্শন নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক।

📰

আপনার এলাকার সংবাদ প্রকাশ করতে চান?

এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, ঘটনা ও জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরুন সবার সামনে। ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ আপনার সংবাদ পাঠান গণদিগন্তের কাছে।

✉ সংবাদ পাঠান
📢

আপনার ব্যবসার প্রচার হোক সবার কাছে!

আপনার প্রতিষ্ঠান, পণ্য কিংবা সেবার প্রচারে বেছে নিন গণদিগন্ত। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে পৌঁছে যান অসংখ্য পাঠকের কাছে।

📣 বিজ্ঞাপন দিন
🌐

প্রতিদিনের খবর জানতে সঙ্গে থাকুন গণদিগন্তের!

দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, খেলাধুলা ও স্থানীয় খবর জানতে নিয়মিত পড়ুন গণদিগন্ত।

📰 গণদিগন্ত পড়ুন | গ্রাহক হোন

ডাকসুর প্রতিক্রিয়া

এদিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুরের ঘটনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডাকসু সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ছবি ও নিদর্শন সংরক্ষণের উদ্দেশ্য, সেগুলোর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা এবং কোনো প্রদর্শনী নিয়ে আপত্তি থাকলে তা জানানোর প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি—এসব বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

উল্লেখ্য, আবু তৈয়ব হাবিলদার এর আগে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তিনি প্রবীণতমদের একজন ছিলেন বলে জানা গেছে।