মান্দা প্রতিনিধি:
একটি সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি তার শিক্ষিত ও নৈতিক প্রজন্ম। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসক, উদ্যোক্তা কিংবা জনসেবক। তাই শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টাই হতে পারে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম ভিত্তি। সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার ধারাবাহিক উদ্যোগ নিয়েছেন নওগাঁর মান্দার মো. আব্দুল মালেক।

স্কুল কিংবা মাদ্রাসা—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়াকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর এসব কার্যক্রমে ফুটে উঠছে শিক্ষার প্রতি এক ধরনের অনুরাগ এবং নতুন প্রজন্মকে নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনার প্রতিচ্ছবি।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় মান্দার তেতুলিয়া হাইস্কুলে রোল নম্বর ১ ও ২-এর শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাতা বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মান্দা উপজেলা শাখার যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি এবং আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আব্দুল মালেকের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের হাতে ছাতা তুলে দেওয়ার এই আয়োজন ছিল ছোট পরিসরের; কিন্তু এর অন্তর্নিহিত বার্তা ছিল বড়। ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি অন্যদের মধ্যেও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আগ্রহ তৈরি করাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা শোনা এবং ভালোভাবে পড়াশোনা করার জন্য উৎসাহ দেওয়া—এসব কার্যক্রমকে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন। কারণ একজন শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে সেই শিক্ষার্থীই সমাজের অসংখ্য মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, সমাজের পরিবর্তন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে আসে না; মানুষের মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও প্রয়োজন। আর সে জায়গায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব।

তেতুলিয়া হাইস্কুলে ছাতা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল ইসলাম মোল্লা বাবুসহ সকল শিক্ষক। এছাড়া ইউনিয়ন যুব সভাপতি শাহিনুর রহমান সুমনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এমন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আব্দুল মালেকের যে বার্তাটি সামনে আসে, তা হলো—আজকের শিক্ষার্থী শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়বে না; সুশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে উঠলে তারাই আগামী দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াবে, সমাজের নেতৃত্ব দেবে এবং জনসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে।

শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি, হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা—এই তিনের সমন্বয়েই যেন আব্দুল মালেকের শিক্ষাবিষয়ক উদ্যোগগুলো একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রত্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।