ডেস্ক রিপোর্ট :

মাদরাসা শিক্ষার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দূর করার পাশাপাশি সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ওলামা পরিষদের নেতারা। তারা বলেছেন, মাদরাসার স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেই শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় ওলামা পরিষদ এ বৈঠকের আয়োজন করে।

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে মাদরাসা শিক্ষার ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। কোনো ব্যক্তির নৈতিক বিচ্যুতি কিংবা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ত্রুটির দায় পুরো মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো উচিত নয়।

মাদরাসা নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বা ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে পুরো একটি শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা সমীচীন নয়। একই সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষার নিজস্ব দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, অপপ্রচার মোকাবিলার পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার আত্মসমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

তিনি আরবি ভাষার ব্যবহারিক চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কোনো মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্তের জন্য পর্যবেক্ষণ সেল ও হটলাইন চালুর প্রস্তাব দেন ড. আহমদ আবদুল কাদের। একই সঙ্গে অপপ্রচার মোকাবিলায় কওমি বোর্ডের অধীনে ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট এবং আইনগত সহায়তার জন্য প্যানেল গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

বৈঠকে কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বৈষম্য দূর করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদায়নের দাবিও তুলে ধরেন বক্তারা।

এ ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি, এসব পদে আলেমদের নিয়োগ এবং শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

জাতীয় ওলামা পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহম্মদ খন্দকার।

বৈঠকে শায়খুল হাদিস শেখ আজিম উদ্দিন, ড. মাওলানা ঈশা শাহেদী, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান, এহতেশামুল হক নোমানী, ড. মুহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, শেখ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল ও মুফতি আবদুল্লাহ ইয়াহিয়াসহ আলেম, শিক্ষাবিদ ও ছাত্রনেতারা বক্তব্য দেন।