গণ দিগন্ত ডেস্ক:
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে—এমন অভিযোগ ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নথি ও নীতিমালা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি নথি সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নথিতে শিশু ও কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব, তাদের নিরাপত্তা এবং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার নিজস্ব গবেষণা ও অভ্যন্তরীণ আলোচনায় শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ব্যবহার, মানসিক সুস্থতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং অনুপযুক্ত কনটেন্টে শিশুদের সংস্পর্শে আসার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিভাবকদের একটি বড় অংশ সন্তানদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ, কনটেন্ট ফিল্টারিং এবং সময়সীমা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একদিকে শিক্ষামূলক ও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করলেও অন্যদিকে অতিরিক্ত ব্যবহার ও অনুপযুক্ত কনটেন্ট তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদেরও শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

এদিকে মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের বয়স যাচাই, ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং অভিভাবকদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের এই সময়ে শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোরও বড় দায়িত্ব রয়েছে। এ নিয়ে সামনে আরও কঠোর নীতিমালা ও জবাবদিহির দাবি জোরালো হতে পারে।