দেশ ও জাতির পক্ষে জামায়াতের ভূমিকা হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক
গণ দিগন্ত ডেস্ক:
দেশের স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা এবং অন্যায় ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। সভায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতের ভূমিকা, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সংসদকে কার্যকর ও গঠনমূলক রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সভা শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের জানান, অতীতের প্রচলিত বিরোধী রাজনীতির নেতিবাচক চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে জামায়াত গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করা হবে এবং অন্যায় ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভূরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। রাজপথে কর্মসূচি থাকলেও তা যেন দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত না করে—এ বিষয়ে সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সংসদে বিরোধীদলের সদস্যদের উন্নয়নমূলক কাজ, বরাদ্দ, বক্তব্য প্রদান, আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন নোটিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে বৈষম্যের মুখে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় জামায়াত সংসদে ও সংসদের বাইরে ভূমিকা রাখছে বলে তিনি জানান।
মতবিনিময় সভায় সম্পাদকরা সংসদকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী রাজনীতি চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন। জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথের কর্মসূচি প্রয়োজন হলেও তা যেন সহিংসতা, অস্থিতিশীলতা বা অসহিষ্ণুতার দিকে না যায়—এমন পরামর্শও দেন তারা।
এ সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়েও আলোচনা হয়। কোনো গণমাধ্যমের ওপর অন্যায় সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হলে দল-মত নির্বিশেষে বিরোধীদলকে তার প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান সম্পাদকদের প্রতিনিধিরা।
মতবিনিময় সভায় জাতীয় বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


