নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামুরহাটে আমবাগান থেকে অর্ধপোড়া অবস্থায় গৃহবধূ মেরিনা বেগমের (৪৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) ও তার সহযোগী তারেক রহমানকে (২১) আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। আটক বাবুল হোসেন ধামুরহাট উপজেলার মড়ল-ই গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে এবং সাবেক ইউপি সদস্য। অপর আটক তারেক রহমান একই এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে। পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেরিনা বেগমকে ডেকে নিয়ে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করতে মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি। তদন্তে জানা যায়, বাবুল হোসেনের সঙ্গে মেরিনা বেগমের সম্পর্ক ছিল এবং বিয়ের জন্য মেরিনা তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ আগস্ট বিয়ের কথা বলে মেরিনাকে ডেকে নেওয়া হয়। রাতে মোটরসাইকেলে করে তাকে একটি নির্জন আমবাগানে নিয়ে যাওয়ার পর সহযোগীদের নিয়ে গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে একটি বোতলে করে আনা পেট্রোল মরদেহের ওপর ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গত ১৯ আগস্ট ধামুরহাট উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের তালপুকুর এলাকার একটি আমবাগান থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত নারী খেলনা দিঘীপাড়া গ্রামের হাসেন আলীর স্ত্রী মেরিনা বেগম। তার স্বামী ও ছেলে কাউছার আলী জীবিকার প্রয়োজনে কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন। গত ১৪ আগস্ট দুপুরে গরুকে খাওয়ানোর জন্য ঘাস কাটতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মেরিনা নিখোঁজ হন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে বাবুল হোসেন ও তারেক রহমানকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বেল্টসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় মোট চারজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে এবং বাকি দুজনকে আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।