গণ দিগন্ত ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ফার্স্ট এইড বুট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে সচেতন ও দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডাকসুর উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিজিএইচআরআই) সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রোববার (১৬ আগস্ট) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দুইটি শিফটে পরিচালিত হয়। প্রথম শিফটে ১৫০ জন এবং দ্বিতীয় শিফটে আরও ১৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মো. বেলাল হোসাইন অপুর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ বুট ক্যাম্পে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনা, আকস্মিক অসুস্থতা ও বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ। প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন ডা. এসএম মুনিরা ও ডা. শরিফুল ইসলাম। এ ছাড়া আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের জরুরি মুহূর্তে আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া, দুর্ঘটনা ও আকস্মিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে করণীয় এবং জীবনরক্ষাকারী প্রাথমিক চিকিৎসার বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীরা যেন শুধু নিজেদের প্রয়োজনে নয়, আশপাশের মানুষের জরুরি প্রয়োজনে কার্যকরভাবে সহযোগিতা করতে পারেন—সেই লক্ষ্যেও প্রশিক্ষণটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মো. বেলাল হোসাইনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আয়োজকদের মতে, জীবনরক্ষাকারী প্রাথমিক চিকিৎসার মতো ব্যবহারিক দক্ষতা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও জনকল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।