গণ দিগন্ত ডেস্ক:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে আয়োজিত এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও ভূমিকা স্মরণ করা হচ্ছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। একই সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্থানীয়ভাবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের আওতাধীন মহাখালীর কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে বিকেল ৩টায় জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে।

খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক নাম খালেদা খানম এবং ডাকনাম পুতুল। তাঁর বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও শৈশবের একটি সময় তিনি জলপাইগুড়িতে কাটান। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর তাঁর পরিবার দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখানে তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরবর্তীতে স্বামীর কর্মস্থলের কারণে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাস করেন। স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক জীবনও দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে সাতদলীয় জোট গঠন করে তৎকালীন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তিনি দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। এরপর ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির নেতৃত্বের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জীবনের শেষ পর্যায়ে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন।

তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হবে। পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও দেশের রাজনীতিতে ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করবেন দলটির নেতাকর্মীরা।