কোরআনের পাখি আল্লামা সাঈদীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ
গণ দিগন্ত ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
আল্লামা সাঈদী ১৯৪০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে ইসলামী জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণায় মনোনিবেশ করেন।
১৯৬৭ সাল থেকে তিনি নিয়মিতভাবে কোরআনের তাফসির ও দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় তাফসির মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ইসলামী আলোচনা ও তাফসিরে অংশ নেন। তাঁর সাবলীল বক্তব্য ও কোরআনের আয়াতের সহজ ব্যাখ্যার কারণে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর তাফসির মাহফিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিতেন। তাঁর বক্তব্যের অডিও-ভিডিও এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আল্লামা সাঈদী সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির নায়েবে আমিরের দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সংসদ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
আল্লামা সাঈদীর জীবনের শেষ কয়েক বছর ছিল কারাবাস ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। ২০১০ সালে গ্রেপ্তারের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিচার হয়। ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আপিলের রায়ে সেই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৩ সালের আগস্টে তাঁকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। ১৪ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর মৃত্যুতে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে শোক প্রকাশ করা হয়। মৃত্যুর তিন বছর পরও দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর জীবন, তাফসির ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর অনুসারী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে দোয়া, আলোচনা ও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ারও আয়োজন করা হয়েছে।


