যুবসমাজকে নেতৃত্বে আনতে কার্যকর সংস্কার চান হামিদুর রহমান আযাদ
মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে তরুণদের দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার আহ্বান
গণ দিগন্ত ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, দেশের যুবসমাজকে আগামী দিনের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। তরুণদের মেধা, দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত যুব র্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে যুবকদের অংশগ্রহণে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি হাইকোর্ট চত্বর ও মৎস্য ভবন এলাকা প্রদক্ষিণ করে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের যুবসমাজ অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী, সাহসী ও দেশপ্রেমিক। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণরা নিজেদের সক্ষমতা ও সাহসের প্রমাণ দিয়েছে। তাই আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে যুবসমাজকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দেশে মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় অনেক তরুণ উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ বিদেশেই স্থায়ী হয়ে যাচ্ছেন। ফলে দেশের মেধাবী জনশক্তির একটি অংশকে হারাতে হচ্ছে।
মেধার মূল্যায়ন জরুরি
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা বিদেশে গিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, প্রকৌশলসহ নানা পেশায় তারা সফলতা অর্জন করছেন। অথচ দেশে অনেক ক্ষেত্রে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের কারণে যোগ্য ব্যক্তিরা যথাযথ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, নিয়োগ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকা
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের ভূমিকা ঐতিহাসিক। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনেও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
তিনি বলেন, তরুণদের শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ দিলেই হবে না; তাদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে যোগ্য তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
সংস্কারের বিকল্প নেই
সমৃদ্ধ, মানবিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। তাদের সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
‘দলীয় পরিচয় নয়, যোগ্যতাই হোক মূল্যায়নের ভিত্তি’
তিনি বলেন, তরুণদের নিয়োগ ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাবের পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাহলেই দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় উন্নয়নের প্রধান শক্তিতে পরিণত হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে তরুণদের অবদান রয়েছে। আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি বলেন, তরুণদের নৈতিক ও আদর্শবান হিসেবে গড়ে তুলতে যুব ও ক্রীড়া বিভাগ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশটি পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোবারক হোসাইন। এতে মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক যুবক উপস্থিত ছিলেন।


