স্পেসএক্স, টেসলা ও প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের হাত ধরে বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ

গণ দিগন্ত ডেস্ক:
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। স্পেসএক্স, টেসলা ও এক্সসহ একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে তাঁর মালিকানা ও ব্যবসায়িক সাফল্যের ওপর ভর করেই এই বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে।

এক ট্রিলিয়ন ডলার মানে এক হাজার বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ১-এর পর ১২টি শূন্য। বাংলাদেশি সংখ্যাপদ্ধতিতে এক ট্রিলিয়নকে বলা যায় এক লাখ কোটি ডলার।

দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে শীর্ষে ছিলেন ইলন মাস্ক। ফোর্বসের হিসাবে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৫০০ বিলিয়ন বা অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের নিট সম্পদের মালিক হন।

এরপর তাঁর সম্পদ বৃদ্ধির গতি আরও বাড়ে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা মাস্কের জন্য একটি রেকর্ড গড়া পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন করেন। ওই প্যাকেজের সম্ভাব্য মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে তখন জানানো হয়েছিল।

স্পেসএক্সে বদলে গেল হিসাব

মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তাঁর মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। রকেট নির্মাণ ও মহাকাশ কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকেরও সম্পর্ক রয়েছে।

২০২৬ সালের জুনে স্পেসএক্স পাবলিক হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়নে বড় পরিবর্তন আসে। এর ফলে কোম্পানিতে মাস্কের মালিকানার মূল্যও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁর নিট সম্পদ বিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য অবশ্য শুধু স্পেসএক্সে সীমাবদ্ধ নয়। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা তাঁর সম্পদের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি গ্রকও তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অংশ।

শুধু সম্পদ নয়, প্রভাবও বাড়ছে

ইলন মাস্কের পরিচিতি শুধু তাঁর বিপুল সম্পদের কারণে নয়। প্রযুক্তি ও ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা বিষয়েও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স ব্যবহার করে তিনি সমসাময়িক রাজনীতি, প্রযুক্তি এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত মতামত প্রকাশ করেন। তাঁর পোস্ট ও মন্তব্য অনেক সময় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন রাজনীতিতেও মাস্কের সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন ও সহযোগিতার বিষয়টি তাঁকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রেও নিয়ে আসে।

বিতর্কও কম নয়

মাস্কের বিপুল সম্পদ ও প্রযুক্তিগত প্রভাব যেমন প্রশংসা পেয়েছে, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

এক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁর মতামত কীভাবে জনমত ও রাজনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সরকারপ্রধান ও রাজনীতিবিদও সমালোচনা করেছেন।

তবে বিতর্কের মধ্যেও প্রযুক্তি ও ব্যবসা জগতে মাস্কের প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। মহাকাশ গবেষণা, বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—বিভিন্ন খাতে তাঁর ব্যবসায়িক উপস্থিতিই তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোক্তাদের একজন করে তুলেছে।

বিশাল এই প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদও। আর সেই ধারাবাহিকতায় ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে সম্পদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছেন ইলন মাস্ক