মাছের মাংসেও মাইক্রোপ্লাস্টিক! বাংলাদেশের নদী-জলাশয়ের মাছ নিয়ে নতুন উদ্বেগ
শুধু পেটে নয়, মানুষের খাওয়া মাছের মাংসপেশিতেও মিলেছে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা
গণ দিগন্ত ডেস্ক:
বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায় মাছের পরিপাকতন্ত্রের পাশাপাশি মাংসপেশিতেও অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ফলে সরাসরি মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা মাছের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোপ্লাস্টিক বলতে সাধারণত পাঁচ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণাকে বোঝানো হয়। পরিবেশে থাকা বড় প্লাস্টিক বিভিন্নভাবে ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। এ ছাড়া সিনথেটিক কাপড়ের তন্তু, যানবাহনের টায়ারের ক্ষয়, প্রসাধনী এবং শিল্পবর্জ্য থেকেও এসব কণা তৈরি হতে পারে।
বৃষ্টির পানি, নালা-নর্দমা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পথ ধরে মাইক্রোপ্লাস্টিক নদী, খাল, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ে পৌঁছায়। জলজ প্রাণীর খাদ্য ও পানির মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র কণা তাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
সাধারণত মাছের শরীরে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিপাকতন্ত্রে আটকে থাকার বিষয়টিই বেশি আলোচিত হয়েছে। কিন্তু কিছু সাম্প্রতিক গবেষণায় মাছের মাংসপেশিতেও এসব কণার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ মাছের এই অংশটিই মানুষ সবচেয়ে বেশি খেয়ে থাকে।
মানুষের শরীরে কতটা ঝুঁকি?
মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেলেই তা মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে—এমন সিদ্ধান্তে এখনো পৌঁছাননি গবেষকরা। বরং মানুষের শরীরে এসব কণার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী, কোন মাত্রায় তা ক্ষতিকর এবং কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস নিয়ন্ত্রণ, নদী-জলাশয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো এবং খাদ্যশৃঙ্খলে এর প্রবেশের মাত্রা নির্ণয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদী ও জলাশয়ে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বাংলাদেশের মতো নদীনির্ভর দেশে মাছ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও পুষ্টির উৎস। তাই জলজ পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের মাত্রা এবং মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এর সম্ভাব্য প্রবেশ নিয়ে নিয়মিত গবেষণা ও নজরদারি এখন সময়ের দাবি।


