প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কোনো অপরাধের বিচার থেকে সরকার পিছিয়ে যাবে না।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন কিংবা গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহীদদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান নয়; বরং গণতন্ত্রকামী মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষার জাতীয় স্মারক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে গণতন্ত্রের জন্য মানুষের ত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তির পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি না করে। একই সঙ্গে তিনি ইতিহাস উপস্থাপনে নির্ভুলতা ও বস্তুনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের বিদেশেও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদানের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, সরকারের উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।