ত্রিভুজ জোটের ইঙ্গিতে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য: সৌদি আরবে এরদোয়ান-শরিফ, আতঙ্কে দিল্লি-তেল আবিব?
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সৌদি আরব সফরের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। এই দুই নেতার একযোগে সফরকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক জোট গঠনের জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। খবর বিবিসি বাংলার।
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ইতিমধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে, যা প্রায় এক বছর ধরে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এখন সেই কাঠামোয় তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে ত্রিপাক্ষিক একটি সামরিক জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। কাতারের লুসাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ মাজহার শাহিন মনে করছেন, এই বৈঠকের পর তিন দেশের মধ্যে সামরিক জোট গঠনের বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার জেরে এই জোট আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতি চলছে, আর এই সংকটে পাকিস্তান অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে
এই সম্ভাব্য জোট ইসরায়েলের স্বার্থে যাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুই নেতার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে
প্রতিরক্ষা ও বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ কমার আঘা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরব একটি সমান্তরাল শক্তি অক্ষ তৈরি করছে, যা ভারত বা ইসরায়েল কারও স্বার্থের পক্ষে নয়। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ গীতাঞ্জলি সিনহা রায়ের মতে, এই জোট বাস্তবায়িত হলে তা পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে
তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা না করা হলেও, সৌদি গণমাধ্যম ও রয়টার্সসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সমঝোতা নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে এই ত্রিপাক্ষিক জোটের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর দিল্লি ও তেল আবিবের নজর থাকবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা


