মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: পারফরম্যান্সের খাতায় টিকলেন না ৫ মন্ত্রী
ঢাকা: সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মদক্ষতা যাচাইয়ে মন্ত্রিসভায় ব্যাপক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে; যেখানে অন্তত তিন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
যারা যাচ্ছেন
সর্বোচ্চ মহলের সূত্রমতে, বাদ পড়ার তালিকায় শীর্ষে আছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে বিতর্ক ও সাম্প্রতিক বক্তব্যে অস্বস্তি তৈরি হওয়ায় তাকে সরানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। তালিকায় দ্বিতীয় নাম স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল; আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন নিয়ে মন্তব্য ও প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য তিরস্কার তার অবস্থান দুর্বল করেছে।
এছাড়া দুর্নীতি ও তদবিরের অভিযোগে আরেক প্রভাবশালী মন্ত্রীও বাদ যাচ্ছেন। প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ তার বিতর্কিত ভিডিও ও ব্যক্তিগত আচরণের কারণে টিকতে পারছেন না। আরেক প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীকেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগে বিদায় নিতে হচ্ছে।
যারা আসছেন
নতুন মুখ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতকে পূর্ণ মন্ত্রী করার পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা অন্যান্য নাম: বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, খন্দকার আবু আশফাক, নজরুল ইসলাম আজাদ ও মো. মজিবুর রহমান। টেকনোক্র্যাট ও জোটের শরিক দল থেকেও নতুন সদস্য আসতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গও
রাষ্ট্রপতি শূন্যপদে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ে শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এগিয়ে থাকলেও দলের বাইরে থেকেও প্রার্থী বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া সংসদ উপনেতা ও মন্ত্রিসভার আকার নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন জানান, কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরিবর্তন স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর। তবে বাদ পড়ার সংখ্যা বেশি হলে ভাবমূর্তিতে প্রভাব পড়তে পারে—এই শঙ্কায় যাদের অভিযোগ কম তাদের সতর্ক করে থাকার নীতিও বিবেচনায় রয়েছে।


