নীরব বিপদ ‘টাইপ–৫’ ডায়াবেটিস: ভুল চিকিৎসায় বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি
দীর্ঘদিনের অপুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন এই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন বিশ্বের আড়াই কোটি মানুষ; সঠিকভাবে শনাক্ত না হওয়ায় উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের
বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ডায়াবেটিসের প্রকোপ। এরই মধ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘টাইপ–৫ ডায়াবেটিস’—যা দীর্ঘদিনের অপুষ্টির কারণে তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই রোগকে টাইপ–১ বা টাইপ–২ ডায়াবেটিস হিসেবে ভুল শনাক্ত করায় অনেক রোগী অপ্রয়োজনীয় ইনসুলিন গ্রহণ করছেন, ফলে তৈরি হচ্ছে প্রাণঘাতী জটিলতা। গবেষকদের ধারণা, বিশ্বে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখনো টাইপ–৫ ডায়াবেটিসকে স্বতন্ত্র রোগ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, তবে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) গত বছর এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ডব্লিউএইচও বলছে, এ বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।
অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিনের গ্লোবাল ডায়াবেটিস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মেরেডিথ হকিন্স বলেন, টাইপ–৫ ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে না পারা এখন একটি বড় বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা। তাঁর ভাষায়, “আমরা এমন অনেক তরুণকে দেখেছি, যারা ভুল চিকিৎসার কারণে সকালে আর জেগে ওঠেনি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে ভোগার কারণে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। এ রোগীরা সাধারণত অতিরিক্ত ওজনের নন; বরং দীর্ঘদিনের অপুষ্টিতে ভোগা স্বল্প ওজনের মানুষদের মধ্যে এর ঝুঁকি বেশি।
সম্ভাব্য লক্ষণ
– অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও ঘন ঘন প্রস্রাব
– দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
– অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি
– ঝাপসা দেখা
– ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
– দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে থাকার ইতিহাস
রোগ ধরা না পড়লে কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো রোগটি শনাক্ত না হলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আবার ভুলভাবে ইনসুলিন প্রয়োগ করলে মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে, যা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, কোমা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
বর্তমানে টাইপ–৫ ডায়াবেটিস নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপুষ্টির ইতিহাস থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা জরুরি।
বর্তমানে বিশ্বে ৮৩ কোটিরও বেশি মানুষ বিভিন্ন ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। নতুন এই সম্ভাব্য ধরন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


