নন-এমপিও শিক্ষকদের কর্মজীবন শেষে খালি হাতে বিদায় করা অমানবিক শর্ত পূরণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এমপিও দিতে হবে: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
গণ দিগন্ত প্রতিবেদন
দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পর কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে শিক্ষকদের খালি হাতে বিদায় করা অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। তিনি বলেjছেন, মানবিক বিবেচনায় নন-এমপিও শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করা সরকারের দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্মিলিত নন-এমপিও শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করেও নন-এমপিও শিক্ষকরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। তাদের আর্থিক ও পারিবারিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে, সেগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে হবে। শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি জামায়াতের সমর্থন রয়েছে। অতীতে শিক্ষকদের আন্দোলন স্তিমিত করতে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ক্ষমতায় গেলে নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়ে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এখনো তাদের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না। শিক্ষকদের দুর্দশা লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৈঠকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা জরুরি। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সম্মিলিত নন-এমপিও শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ তৈরি করছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বছরের পর বছর বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান ২৫ থেকে ২৬ বছর পার করলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।
তাদের দাবি, দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো এমপিওভুক্তির বাইরে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই আর্থিক সংকটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। একটি সুনির্দিষ্ট ও বৈষম্যহীন নীতিমালার ভিত্তিতে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে হবে।
শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন বিনা বেতনে শিক্ষকতা করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন। সরকারের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। শিক্ষামন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শিক্ষকদের মানবিক সংকট তুলে ধরতে চান তারা।
বৈঠকে সম্মিলিত নন-এমপিও শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ নাজমুস শাহাদাৎ আজাদী, সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. মনিমুল হক, অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যক্ষ বাকী বিল্লাহ, অধ্যক্ষ মিজানুল হক মামুন, প্রভাষক মাওলানা মোবারক হোসেন, প্রভাষক রায়হান কবীর মিঠু, প্রভাষক মো. গোলাম মোস্তফা ও সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসানসহ শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

