চীন ও আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ
গণ দিগন্ত ডেস্ক
চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে অর্থনীতি, জ্বালানি, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিকেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় জ্বালানি, অবকাঠামো, বিমান চলাচল, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলওয়ে ও লজিস্টিকস খাত বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ঢাকায় অবস্থিত আমিরাত দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চীনের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব
এদিকে চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ এবং নিউইয়র্কে বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাকে অভিনন্দন জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।
ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর ও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন দেশটির দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।
দুই দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রচেষ্টায় নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

